আয়রনের ঘাটতির উপসর্গগুলো জেনে নিন
আয়রন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান যা শারীরিক বিভিন্ন প্রকার কাজের সাথে জড়িত। হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতিতে বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। লোহিত রক্ত কণিকাকে সারা দেহে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে। কোষের ভিতর দিয়ে ইলেকট্রনের ভ্রমণে পরিবহণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এনজাইম এর কাজ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হতে সাহায্য করে আয়রন। শরীরে আয়রনের সঠিক মাত্রা বজায় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্ব জুড়ে আয়রনের ঘাটতি একটি কমন নিউট্রিশনাল ডিফিসিয়েন্সি। যদি সময়মত নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে এর ফলে অ্যানেমিয়া হতে পারে।
আয়রন ঘাটতির কিছু কারণ হচ্ছে- খাদ্যের মাধ্যমে পর্যাপ্ত আয়রন গ্রহণ না করা, দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ, প্রেগনেন্সির সময় আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া, সঠিকভাবে আয়রন শোষিত না হওয়া। নারীর গর্ভধারণের সময়টাতে আয়রনের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। গর্ভাবস্থায় ২০ শতাংশ নারীই আয়রনের ঘাটতির ফলে অ্যানেমিয়াতে ভুগে থাকে। ১৯-৫০ বছর বয়স্ক নারীদের দৈনিক ১৮ মিলিগ্রাম আয়রন গ্রহণ করা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় দৈনিক ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন গ্রহণ করা উচিৎ। অন্যদিকে একজন পুরুষের খাদ্যের মাধ্যমে দৈনিক ৮ মিলিগ্রাম আয়রন গ্রহণ করা প্রয়োজন। আয়রনের ঘাটতির ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরণের প্রভাব পড়ে। তাই এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে সজাগ হওয়া প্রয়োজন। আয়রন ঘাটতির উপসর্গগুলো সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।
১। ক্লান্তি ও অবসাদ
যাদের দেহে আয়রনের লেভেল কম থাকে তাদের একটি সাধারণ সমস্যা হচ্ছে ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগা। হিমোগ্লোবিনের সর্বোত্তম মাত্রা বজায় রাখার জন্য আয়রন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হিমোগ্লোবিন রক্তস্রোতে অক্সিজেন পরিবহণ করে। শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতির ফলে নিয়মিত ক্লান্তিবোধ ও অবসন্নতায় ভোগতে দেখা যায়। যদি আপনি নিয়মিত ক্লান্তিবোধ করেন ও অবসন্নতায় ভোগেন তাহলে ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে জেনে নিন আয়রনের ঘাটতিতে ভুগছেন কিনা। সময়মত চিকিৎসা নিলে উপসর্গগুলো দ্রুত কমানো সম্ভব হবে।
২। শ্বাসকষ্ট
আয়রনের মাত্রা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন কম পৌঁছায়। যখন শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় তখন আপনি যত গভীরভাবেই দম নেন না কেন আপনার শ্বাসকষ্ট হবে। সাধারণভাবে যে কাজগুলো আপনি খুব সহজেই করতে পারতেন সেগুলো করতে গেলেও আপনার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হবে যেমন- সিঁড়ি বেয়ে উঠা, অল্প কিছুক্ষণ হাঁটা বা সামান্য কিছু বহন করা।
৩। ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া
আয়রনের ঘাটতির আরেকটি সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া। আয়রনের লেভেল কমে গেলে শরীর পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সক্ষম হয়না। হিমোগ্লোবিনের জন্যই রক্তের রঙ লাল দেখায় এবং আপনার ত্বকেও গোলাপি আভা দেখা যায়। আয়রনের ঘাটতি বৃদ্ধি পেলে ত্বক তার নিজস্ব রঙ হারিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ঠোঁটের ভেতরের দিকে, মাড়িতে ও চোখের নীচের পাতার ভেতরের দিকে স্বাভাবিকের চেয়ে কম লাল দেখাবে।
৪। ভঙ্গুর নখ
যদি আপনার নখ খুব সহজেই ভেঙ্গে যায় ও ফ্যাকাসে দেখায় তাহলে আপনি সম্ভবত আয়রনের ঘাটতিতে ভুগছেন। ভঙ্গুর নখের পাশাপাশি আপনার নখ যদি অবতল বা চামচের মত দেখায় তাহলে তা আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত প্রকাশ করে।
৫। চুল পড়ে যাওয়া
চুল পড়ে যাওয়ার অনেক কারণের মধ্যে আয়রনের ঘাতটি একটি। আয়রনের ঘাটতির সময় শরীর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে আয়রন প্রেরণ করে না। ফলে চুল পড়ে যায়। প্রতিদিন ১০০টি করে চুল পড়া স্বাভাবিক যদি এর চেয়ে বেশি চুল পড়ে তাহলে আপনি আয়রনের ঘাটতিতে ভুগছেন ধরে নেয়া যায়।
৬। পাইকা
যারা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগেন তাদের মধ্যে খাদ্য নয় এমন জিনিস যেমন-কাদামাটি, ধুলাবালি বা চক ইত্যাদি খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, এই ধরণের অবস্থাকে পাইকা বলে।
এছাড়াও মাথা ঝিমঝিম করা, মাথাব্যথা, পায়ের মাংসপেশীতে ব্যথা, মনোযোগ দিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। শিশুদের অ্যানেমিয়া হলে- শিশু উদ্বিগ্ন থাকে, মনোযোগ কম থাকে, স্বাভাবিকের চেয়ে আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পায় এবং কথা বলা ও হাঁটা শিখতে দেরি হয়।
এগুলো অবহেলা না করে চিকিত্সক এর সাহায্য নিন এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। তবে নিজে নিজে আয়রন ট্যাবলেট সেবন করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
REF: প্রিয় লাইফ-প্রিয়.কম
doc2p provides you quick and easy access to doctors, healthcare facilities, and informative health blog posts anytime, anywhere.